বিজি

কারখানা থেকে সরবরাহকৃত জৈব কীটনাশক অ্যাবামেকটিন ৯৫%টিসি

সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

পণ্যের নাম

অ্যাবামেকটিন

CAS নং

৭১৭৫১-৪১-২

চেহারা

সাদা স্ফটিক

স্পেসিফিকেশন

৯০%, ৯৫% টিসি, ১.৮%, ৫% ইসি

আণবিক সূত্র

C49H74O14

ফর্মুলা ওজন

৮৮৭.১১

মোল ফাইল

৭১৭৫১-৪১-২.মোল

স্টোরেজ

শুষ্ক ও বায়ুরোধী অবস্থায়, -২০° সেলসিয়াসের নিচে ফ্রিজারে সংরক্ষণ করুন।

প্যাকিং

২৫ কেজি/ড্রাম, অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী

সার্টিফিকেট

ISO9001

এইচএস কোড

২৯৩২৯৯৯০০৯৯

বিনামূল্যে নমুনা পাওয়া যায়।

 


পণ্যের বিবরণ

পণ্যের ট্যাগ

ভূমিকা
অ্যাবামেকটিন একটি শক্তিশালী কীটনাশক ও মাকড়নাশক, যা কৃষি শিল্পে বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ দমনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি ১৯৮০-এর দশকে প্রথম চালু হয় এবং এর কার্যকারিতা ও বহুমুখীতার কারণে তখন থেকে এটি ফসল সুরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণে পরিণত হয়েছে। অ্যাবামেকটিন অ্যাভারমেকটিন যৌগ পরিবারের অন্তর্গত, যা মাটির ব্যাকটেরিয়া স্ট্রেপ্টোমাইসিস অ্যাভারমিটিলিস-এর গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত হয়।

বৈশিষ্ট্য
১. ব্যাপক কার্যকারিতা: অ্যাবামেকটিন মাকড়, লিফমাইনার, থ্রিপস, শুঁয়োপোকা, গুবরে পোকা এবং অন্যান্য চিবিয়ে খাওয়া, রস চোষা ও ছিদ্রকারী পোকামাকড়সহ বিস্তৃত পরিসরের কীটপতঙ্গের বিরুদ্ধে কার্যকর। এটি পাকস্থলীর বিষ এবং সংস্পর্শ কীটনাশক উভয় হিসাবে কাজ করে, যা দ্রুত দমন এবং দীর্ঘস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রদান করে।
২. সিস্টেমিক ক্রিয়া: অ্যাবামেকটিন উদ্ভিদের অভ্যন্তরে স্থানান্তরিত হয়ে শোধিত পাতাকে সিস্টেমিক সুরক্ষা প্রদান করে। এটি পাতা ও শিকড় দ্বারা দ্রুত শোষিত হয়, ফলে উদ্ভিদের যেকোনো অংশ ভক্ষণকারী কীটপতঙ্গ সক্রিয় উপাদানটির সংস্পর্শে আসে।
৩. দ্বৈত কার্যপ্রণালী: অ্যাবামেকটিন ক্ষতিকর পোকামাকড়ের স্নায়ুতন্ত্রকে লক্ষ্য করে তার কীটনাশক ও মাকড়নাশক প্রভাব বিস্তার করে। এটি স্নায়ুকোষে ক্লোরাইড আয়নের চলাচলে বাধা দেয়, যার ফলে অবশেষে পোকামাকড় বা মাকড়টি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে মারা যায়। এই অনন্য কার্যপ্রণালী লক্ষ্যবস্তু ক্ষতিকর পোকামাকড়ের মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠা রোধ করতে সাহায্য করে।
৪. দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা: অ্যাবামেকটিনের চমৎকার দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা রয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে সুরক্ষা প্রদান করে। এটি গাছের উপরিভাগে সক্রিয় থেকে পোকামাকড়ের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে এবং ঘন ঘন পুনঃপ্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করে।

অ্যাপ্লিকেশন
১. ফসল সুরক্ষা: ফল, শাকসবজি, শোভাবর্ধক উদ্ভিদ এবং মাঠ ফসলসহ বিভিন্ন ফসলের সুরক্ষায় অ্যাবামেকটিন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি মাকড়সা, জাবপোকা, সাদা মাছি, পাতা ছিদ্রকারী পোকা এবং আরও অনেক ক্ষতিকারক পোকামাকড় কার্যকরভাবে দমন করে।
২. পশু স্বাস্থ্য: গবাদি পশু এবং পোষা প্রাণীর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরজীবী নিয়ন্ত্রণের জন্য পশু চিকিৎসাবিদ্যায় অ্যাবামেকটিন ব্যবহৃত হয়। এটি কৃমি, এঁটেল পোকা, মাইট, মাছি এবং অন্যান্য বহিঃপরজীবীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর, যা এটিকে পশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য একটি অপরিহার্য উপকরণে পরিণত করেছে।
৩. জনস্বাস্থ্য: জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিতে, বিশেষ করে ম্যালেরিয়া ও ফাইলেরিয়াসিসের মতো বাহক-বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে অ্যাবামেকটিন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মশারির পরিচর্যা, ঘরের ভেতরে দীর্ঘস্থায়ী স্প্রে এবং রোগ-সংক্রমণকারী পোকামাকড় মোকাবেলার অন্যান্য কৌশলে ব্যবহৃত হয়।

পদ্ধতি ব্যবহার করে
১. পাতায় প্রয়োগ: প্রচলিত স্প্রে করার সরঞ্জাম ব্যবহার করে অ্যাবামেকটিন পাতায় স্প্রে করা যেতে পারে। সঠিক পরিমাণে পণ্যটি পানির সাথে মিশিয়ে নির্দিষ্ট গাছে সমানভাবে প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ফসলের ধরণ, পোকার আক্রমণ এবং পরিবেশগত অবস্থার উপর ভিত্তি করে এর মাত্রা এবং প্রয়োগের ব্যবধান ভিন্ন হতে পারে।
২. মাটিতে প্রয়োগ: অ্যাবামেকটিন গাছের চারপাশের মাটিতে অথবা সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োগ করে সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রদান করা যায়। এই পদ্ধতিটি নেমাটোডের মতো মাটিতে বসবাসকারী ক্ষতিকর পোকা দমনের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর।
৩. সামঞ্জস্যতা: অ্যাবামেকটিন অন্যান্য অনেক কীটনাশক ও সারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, ফলে এগুলোর ট্যাঙ্কে মিশ্রণ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়। তবে, অন্যান্য পণ্যের সাথে মেশানোর আগে স্বল্প পরিসরে সামঞ্জস্যতা পরীক্ষা করে নেওয়া সর্বদা বাঞ্ছনীয়।
৪. নিরাপত্তা সতর্কতা: অ্যাবামেকটিন নাড়াচাড়া ও ব্যবহারের সময় প্রস্তুতকারকের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োগ প্রক্রিয়ার সময় দস্তানা এবং চশমার মতো ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহার করা উচিত। খাদ্য নিরাপত্তা বিধিমালা মেনে চলার জন্য ফসল তোলার পূর্ববর্তী প্রয়োজনীয় বিরতি মেনে চলারও পরামর্শ দেওয়া হয়।


  • পূর্ববর্তী:
  • পরবর্তী:

  • আপনার বার্তাটি এখানে লিখে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন।